আসিফ মহিউদ্দিন

জার্মান প্রবাসী আসিফ মহিউদ্দীন বাঙলা অন্তর্জালে একজন নিধার্মিক ব্লগার এবং অনলাইন একটিভিস্ট।

সরকারকে বিব্রত করবেন না

ধরুন আপনাকে ডিবি পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই তুলে নিয়ে হাড্ডি ভাঙ্গা পিটানি দিয়েছে। এমতাবস্থায় ঘুণাক্ষরেও চিৎকার করে কান্না করে সরকারকে বিব্রত করবেন না। কারণ তাতে জামাত বিএনপি ক্ষমতায় চলে আসবে। চুপ করে ভাল ছেলেটির মতো হাসিমুখে পেটানি সহ্য করুন। জামাত বিএনপি আসলে কিন্তু আরো মারতো। সেটা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না।

ধরুন আপনাকে ছাত্রলীগ রাস্তায় ফেলে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। আপনি চেঁচিয়ে উঠবেন না। মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের অবদানের কথা ভেবে হাসিমুখে ভাঙ্গা হাতটি নিয়ে দৌঁড়ান। বেঁচে ফিরতে পারলে ছাত্রলীগের সুনাম করে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন, বিএনপি জামাত হলে আপনার দু’টো হাতই ভেঙ্গে দিতো। ছাত্রলীগ তো অল্পের ওপর একটি হাত ভেঙ্গেছে। ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ দেয়া আপনার চেতনাগত দায়িত্ব।

ধরুন আপনার ভাইকে র‍্যাব ধরে নিয়ে দশ লাখ টাকা চেয়েছে। না দিলে তাকে ক্রসফায়ারে মেরে দেবে বলে হুমকিও দিয়েছে। আপনি সেটা আবার সাংবাদিকদের কেনো বলবেন? সরকারকে বিব্রত করতে চান? চুপ থাকুন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকুন। দশ লাখের চেয়ে মুক্তিযুদ্ধ অনেক বড়। ভাইটিকে ফিরে না পেলেও বেশি কথা বলবেন না। মনে রাখবেন, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায়। বিএনপি জামাত আসলে আরো অনেক কিছু হতে পারতো। সেসব ভেবে আওয়ামী লীগকে পরেরবার ভোট দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বেইমানি করবে না।

ধরুন আপনার বোনটিকে কোনো আওয়ামী নেতা তুলে নিয়ে গেছে। বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। তাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অপেক্ষা করুন। বোনটিকে ফেরত দেয় কিনা। ফেরত দিলে ভাববেন, বিএনপি জামাত ক্ষমতায় থাকলে তো বোনটি ফেরতই আসতো না। ভাগ্য ভালো, বোনটিকে আওয়ামী লীগ নেতা নিয়েছিলো। তাই ফেরত পেলেন। মুক্তিযুদ্ধের সরকার, স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি আছে বলেই এমনটি হলো। তাই বেশি ট্যাঁ ফুঁ করবেন না। আর যদি বোনটিকে ফেরত না পান, ভাববেন, অন্য বোনগুলো তো অক্ষত আছে। বিএনপি জামাত থাকলে সবাইকেই তুলে নিতো। এই ভেবে দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিন। উনি আছেন বলেই এক বোনের ওপর দিয়ে গেছে। উনি না থাকলে সবগুলো বোনকেই নিয়ে যেতো। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি বলে কথা।

ধরুন আপনার ছেলেটিকে মুক্তচিন্তার অপরাধে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মেরেছে। নোবেল বিজয়ের একমাত্র দাবীদার শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্লগার হত্যার দায় তিনি নেবেন না। আপনি এই নিয়ে বেশি কথা বলবেন না। সরকারকে বিব্রত করবেন না। তাতে বিএনপি জামাত ক্ষমতায় চলে আসবে। তারা আসলে আপনিও কোপ খেতেন। তাই আপনি কোপ খান নি, এই ভেবে আনন্দিত হোন। সুখী হোন। সবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃপা। তার দয়াতেই বেঁচে আছেন। নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। তাই কৃতজ্ঞ থাকুন। বেশি কথা বলার দরকার কী?

সরকারকে বিব্রত করবেন না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকুন। স্বাধীনতা বিরোধীরা নইলে চলে আসবে। তাই পরেরবার অবশ্যই আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। অবশ্য কেউ ভোট না দিলেও তারাই জয়ী হবে। সেসব নিয়ে আপনি টেনশন নিয়েন না। মনীষা চক্রবর্তী বরিশালে ইলেকশন করেছিলো, ভোট দিতে গিয়ে দেখেছে সব ব্যালটে নৌকায় সিল দেয়া। আপনি ভোট দিতে না গেলেও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি আপনার ভোটটি দিয়ে দেবে। কী লাভ এত কষ্ট করে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার? ভোট দিতে গিয়ে সরকারকে বিব্রত করবেন না। সরকার আপনার কষ্টের কথা ভেবে নিজেরাই ভোটটি দিয়ে নেবেন।

সরকারের প্রশংসা করুন এবং জীবিত থাকুন। বলা তো যায় না......

1411 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।